
২০২১ সালের জুলাই মাসে যখন আমি Jyoti র সঙ্গে কাজ শুরু করি, তখনো জানতাম না এই যাত্রা কতটা নিবিড়ভাবে আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। সেই বছরের অক্টোবর মাসে, হাজী মহসিন কলেজে বসিয়েছিলাম আমার প্রথম ভেন্ডিং মেশিন। ছোট্ট সেই পদক্ষেপ ছিল বড় একটি স্বপ্নের শুরু।
আজ, চার বছর পর, অক্টোবর ২০২৫ এ আমরা পেরিয়েছি এক বিশাল মাইলফলক! বাংলাদেশের ৩৬টি জেলায় ৫১০টি জ্যোতি স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন।
এর মধ্যে ৩০০টিরও বেশি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মেয়ে পিরিয়ডের সময়ে সহজে এবং গোপনীয়তার সঙ্গে তার প্রয়োজনীয় প্যাড পাচ্ছে।
এমনকি জ্যোতি ঢাকা বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও মাগুরার কর্পোরেট গুলোতে ডানা মেলছে এক এক করে। যেখানে কর্মরত নারীরা তাদের কাজের মাঝে নিরাপদভাবে পিরিয়ডের চাহিদা মিটিয়ে নিতে পারছে। প্রায় অর্ধ শতাধিক আরএমজি সেক্টরের নারীদের হাতের কাছে আজ জ্যোতি। এছাড়াও রয়েছে কর্মজীবি মহিলা হোস্টেল, মার্কেট কিংবা রেলস্টেশন, জর্জ কোর্টের মতো পাবলিক প্লেসে।
এই সংখ্যার পেছনে আছে অসংখ্য গল্প, চ্যালেঞ্জ, চেষ্টা আর নতুন নতুন উদ্ভাবন। প্রথম ডিভাইস থেকে শুরু করে আমাদের ৫১০তম মেশিন পর্যন্ত, আমরা বারবার মেশিনের ভার্সন উন্নত করেছি, সমস্যার সমাধান করেছি, ব্যর্থতার পর আবার দাঁড়িয়েছি, এবং প্রতিটা ছোট বিজয়কে উদযাপন করেছি।
জ্যোতি শুধু একটি ভেন্ডিং মেশিন নয়—এটি একটি যাত্রা, একটি বিশ্বাস, যে প্রত্যেক মেয়ের রয়েছে পিরিয়ডের সময় নিরাপদে প্যাড পাওয়ার অধিকার। এই যাত্রায় আমি অসংখ্য মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি—আমাদের পার্টনার, আমাদের টিম, এবং সেই কমিউনিটি, যারা জ্যোতিকে বিশ্বাস করেছে, পাশে থেকেছে, এবং একসাথে স্বপ্ন দেখেছে।
আজ, যখন আমরা ৫০০+ মাইলফলক অতিক্রম করেছি, তখন আমি একই সাথে আবেগপ্রবণ, অত্যন্ত গর্বিত এবং অনুপ্রাণিত বোধ করছি। এটা শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি বদলে যাওয়ার গল্প, প্রতিশ্রুতি, এবং সামনের দিনের উদ্ভাবনের স্বাক্ষ্য।
চলুন, একসাথে কাজ করি আরও অনেককে ডিগনিটি এবং নিরাপদ পিরিয়ড এক্সেস দিতে। 
দিনা আফসানা
Co founder & COO

