কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মুন্সিগঞ্জ সদরে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি, ‘জ্যোতি’ জেলার ৫টি স্কুলে ৫টি ‘জ্যোতি প্রো+’ স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করেছে। এই উদ্যোগের ফলে ছাত্রীরা এখন স্কুল থেকেই খুব সহজে এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি প্যাড সংগ্রহ করতে পারছে।
এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার (MHM) চিত্র এখনও বেশ উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বিপুল সংখ্যক কিশোরী মাসিক বিষয়ে সঠিক তথ্য জানে না। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় ৩০% থেকে ৪০% ছাত্রী মাসিকের সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।
এর প্রধান কারণ হলো প্যাডের উচ্চমূল্য এবং সহজলভ্যতার অভাব। ফলে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে, একটি বড় অংশের মেয়েরা এখনও অস্বাস্থ্যকর পুরোনো কাপড় ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।
জ্যোতির সমন্বিত সেবা ও প্রযুক্তি
জ্যোতি কেবল মেশিন স্থাপন করেই দায়িত্ব শেষ করছে না। তারা একটি পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করছে।
১. স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা: এই ‘জ্যোতি প্রো+’ মেশিনগুলো সাধারণ ভেন্ডিং মেশিনের মতো নয়। এগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) প্রযুক্তিসম্পন্ন। প্রতিটি মেশিন একটি কেন্দ্রীয় ক্লাউড সার্ভারের সাথে সংযুক্ত থাকে।
২. নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ: মেশিনে প্যাডের সংখ্যা কমে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্যোতির সাপোর্ট টিমের কাছে বার্তা চলে যায়। ফলে, প্যাড শেষ হওয়ার আগেই তা পুনরায় ভর্তি করা হয়। জ্যোতির দক্ষ টিম মেশিনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন প্যাড সরবরাহ নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে ছাত্রীরা সবসময় মেশিনে প্যাড পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়।
৩. মেশিনের কার্যক্ষমতা: প্রতিটি মেশিন একসাথে ১৫০টি প্যাড ধারণ করতে পারে। বর্তমানে, ছাত্রীদের সুবিধার জন্য এখানে বেল্ট এবং প্যান্টি সিস্টেম—উভয় প্রকার প্যাডই সুলভ মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
সঠিক সরঞ্জামের পাশাপাশি সঠিক জ্ঞান থাকাও জরুরি। এই লক্ষ্যে, জ্যোতির সিওও (COO) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা দিনা আফসানা নিজে দুটি স্কুলে সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করেন। তিনি এভিজেএম গার্লস হাই স্কুল এবং মুন্সিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কিশোরী স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা (MHM) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই সেশনগুলো ছাত্রীদের মাসিক সংক্রান্ত জড়তা ও ভুল ধারণা ভাঙতে সাহায্য করে। তারা স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে সঠিক জ্ঞান লাভ করে।
তদুপরি, এই ডিজিটাল মেশিনগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে ছাত্রীরা অল্প বয়স থেকেই ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এটি তাদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতেও বড় ভূমিকা রাখছে। জ্যোতির এই সমন্বিত প্রচেষ্টা মুন্সিগঞ্জের কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।



